জবাই করার আগে প্রাণ ভিক্ষা চাইল মহিষ!(ভিডিও)

প্রকাশিতঃ ১১ January, ২০২০ আপডেটঃ ৪:১৯ PM

সে জানত তাকে বাঁচতে হবে, কেননা সে আর একা নেই তাঁর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আরও একটি ছোট্ট প্রাণ, আর তাই হাঁটু মুড়ে কাকুতি-মিনতি করতেও পিছপা হয়নি সে। বলা হচ্ছে একটি মহিষের কথা। অনলাইনে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে চীনের এক কসাইখানায় জবাই করার জন্যে দড়ি দিয়ে বেঁধে টেনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে একটি মহিষকে, আর সে আপ্রাণ চেষ্টা করছে সেখানে না যাওয়ার।

তারপর যখন গায়ের জোরে সে আটকাতে পারল না, তখন ছলছল চোখে রীতিমতো করুণাপ্রার্থী হয়ে সামনের পা দুটো মুড়ে যেন প্রাণভিক্ষা চাইল কসাইয়ের কাছে। চীনের কসাইখানায় তোলা একটি মহিষের ভিডিও চোখে জল এনে দিল নেটিজেনদের। আর কী আশ্চর্য! শেষ পর্যন্ত নিজের প্রাণ বাঁচাতে সক্ষমও হল মহিষটি। কেননা তাঁর প্রাণভিক্ষার ভিডিও ততক্ষণে ভাইরাল হয়েছে নেট দুনিয়ায়, আর তা দেখে কাতারে কাতারে মানুষ এসে চড়াও হয় ওই কসাইখানায়, রুখে দেয় মহিষটির জবাই।

খবরে বলা হয়েছে, রবিবার (৫ জানুয়ারি) গুয়াংডং প্রদেশের শান্টাউতে ওই মহিষটিকে জবাই করার জন্য চিহ্নিত করা হয়। কিন্তু মহিষটি যেই বুঝতে পারে যে তার মালিক তাকে বিক্রি করে দিতে যাচ্ছে তখন সে গভীর চোখ দুটি জলে ভরিয়ে চেষ্টা করে মালিককে তাকে বিক্রি করা আটকাতে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের মতে আসলে মহিষটি সম্ভবত গর্ভবতী ছিল, তাই শুধু নিজের জন্যে নয়, নিজের গর্ভে থাকা কচি প্রাণটির জন্যেই বাঁচার আপ্রাণ চেষ্টা করছিল সে।

এক সংবাদ প্রতিনিধি জানায়, কসাইখানায় পৌঁছনোর পরে কসাই যখন ওকে ট্রাক থেকে টেনে নামিয়ে জবাইকক্ষে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে তখন সে কসাইয়ের মন ভিজাতে হাঁটু মুড়ে কাকুতি মিনতি করে, এমনকি প্রাণভিক্ষা করে কাঁদতেও দেখা যায় মহিষটিকে। সেই সময়েই কসাইখানারই এক কর্মী এই ভিডিওটি তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করে দেন। তারপরেই চীনের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলির মাধ্যমে মর্মস্পর্শী এই ভিডিওটি দেখেন হাজার হাজার মানুষ।

জানা গেছে, ভিডিওটি মুহূর্তেই ৭ মিলিয়ন মানুষের কাছে পৌঁছে যায় । সেটির খবর যায় পশুপ্রেমীদের কাছেও, যাঁরা একজোট হয়ে উপস্থিত হন ওই কসাইখানায়, রুখে দেন মহিষটির জবাই। কয়েকজন মিলে চাঁদার মাধ্যমে প্রায় ২৪,৯৫০ ইউয়ান (আড়াই লক্ষ টাকা) টাকা সংগ্রহ করে শেষপর্যন্ত মৃত্যুদূত ওই কসাইয়ের কাছ থেকে কিনে নেন মহিষটিকে । এর পরে তাকে দান করে দেওয়া হয় স্থানীয় একটি বৌদ্ধ মন্দিরে । পাশাপাশি মন্দির কর্তৃপক্ষকে ওই মহিষটির ব্যয়ভার বহন করতে ৪,০০০ ইউয়ানও দেন।

এসএইচ-০৯/১১/২০ (অনলাইন ডেস্ক)