বিদেশিনী বিয়ে করলে নোবেল পাওয়া যায়

প্রকাশিতঃ ১৯ অক্টোবর, ২০১৯ আপডেটঃ ৫:৪২ অপরাহ্ণ

এ বছর অর্থনীতিতে যে তিনজন যৌথভাবে নোবেল পেয়েছেন তাদের একজন বাঙালি অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে তার এ নোবেল পাওয়া ঘিরে কটূক্তিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন ভারতের কেন্দ্র সরকারে ক্ষমতাসীন দল বিজেপির একাধিক নেতা।

বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা অভিজিতের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও আক্রমণ করেছেন। এ বছর অভিজিতের সঙ্গে একই বিভাগে নোবেল পেয়েছেন তার স্ত্রী এস্থার ডাফলো। ফরাসী নাগরিক ডাফলো একসময় অভিজিতের ছাত্রী ছিলেন।

রাহুল বললেন, দ্বিতীয়বার বিদেশিনীকে বিয়ে করলে দেখছি লোকে নোবেল পায়। অমর্ত্য সেনকেও দেখেছি।
বিজেপির জাতীয় সম্পাদক রাহুল আরও বলেন, বামপন্থী অর্থনীতি এদেশে চলে না। মানুষ বামপন্থীকে প্রত্যাখ্যান করেছে। বিদেশে কোথাও অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের তত্ত্ব কাজে লাগতে পারে। তবে ভারতে দারিদ্র দূর করতে উনি কোনও কাজে আসবেন না। ভারতে মহাত্মা গান্ধীর নীতিতেই আর্থিক উন্নতি সম্ভব।

এর আগে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা পীযূষ গোয়েল কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রীর বলেছিলেন, অভিজিৎ বামপন্থী মানসিকতার। উনি ‘ন্যায় প্রকল্প’র গুণগান গেয়েছিলেন। ভারতের মানুষ ওনার মতকে খারিজ করে দিয়েছে।

উল্লেখ্য, কংগ্রেসের ন্যায় প্রকল্প রূপরেখা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন অভিজিৎ। ফলে তিনি নোবেল পাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা ব্যাকফুটে গেরুয়া শিবির। বিশেষ করে ন্যায় প্রকল্পের মাহাত্ম্য তুলে ধরার সুযোগ পেয়ে গিয়েছে কংগ্রেস। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও ঘণ্টাখানেক সময় নিয়ে অভিজিতকে অভিনন্দন জানিয়ে টুইট করেছিলেন।

আর রাহুল গান্ধী টুইটারে লিখেছিলেন, ভারতের আর্থিক উন্নয়নে ও দারিদ্র দূর করতে ন্যায় প্রকল্পের রূপরেখা তৈরিতে সাহায্য করেছিলেন অভিজিৎ। তার বদলে এখন চলছে মোদি নীতি। যা দেশের অর্থনীতিতে ধ্বংস করছে। বাড়ছে দারিদ্র।

অভিজিৎ নিজেও মোদির শাসনামলে ভারতের অর্থনীতি নিয়েও সমালোচনা করেছেন। তার কথায়, ভারতের অর্থনীতিতে চাহিদা কমছে। এটা আশঙ্কার বিষয়।

এমআইটি-তে ভাষণ দেওয়ার সময় অভিজিৎ বলেছেন, পরিসংখ্যান সঠিক, বেঠিক নিয়ে লড়াই চলছে ভারতে। যে পরিসংখ্যান সরকারের পক্ষে নয়, তা ভুল মনে করছে তারা। কিন্তু আমার মনে হয় সরকারও বুঝতে পারছে, সমস্যা রয়েছে। ক্রমশ স্লথ হচ্ছে অর্থনীতি। কতটা দ্রুতবেগে অধোগামী হচ্ছে, তা নিয়ে পরিসংখ্যানে বিভ্রান্তি রয়েছে। তবে আমার মনে হচ্ছে, বেশ দ্রুতই।

এসএইচ-২০/১৯/১৯ (অনলাইন ডেস্ক)