বিয়ের আগে পাত্র-পাত্রীর রক্তের গ্রুপ জানা জরুরি

প্রকাশিতঃ ১২ January, ২০২০ আপডেটঃ ৩:২০ PM

বিয়ের আগে পাত্র বা পাত্রীর ব্লাড গ্রুপ জানা একান্ত জরুরি। বিয়ের পর যাতে কোনো রকম অসুবিধা না হয় তার জন্য মেডিকেল পরীক্ষা করানো উচিত, বিয়ের পর যাতে কোনো রকম অসুবিধা না হয়। পাত্র বা পাত্রীর বাড়ির লোকেরও এই বিষয়ে বিশেষত সচেতন হওয়া বিশেষভাবে জরুরি।

ব্লাড গ্রুপকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা হয়। একটা হলো ABO system (A, B, AB & O), আরেকটা হলো Rh factor {Rh positive(+ve) & Rh negative(-ve)}. অর্থাৎ Rh factor ঠিক করবে ব্লাড গ্রুপ পজিটিভ হবে, না নেগেটিভ হবে। ব্লাড গ্রুপগুলো হলো: A+ve, A-ve, B+ve, B-ve, AB+ve, AB-ve O+ve, O-ve.

সারা বিশ্বে মানুষের রক্তের ৩৬% “O” গ্রুপ, ২৮ ভাগ “A” গ্রুপ, ২০% “B” গ্রুপ। কিন্তু এশিয়াতে প্রায় ৪৬% মানুষের রক্তের গ্রুপ “B”। এশিয়ায় নেগেটিভ ব্লাড গ্রুপ ৫%, সেখানে ইউরোপ আমেরিকাতে প্রায় ১৫%.

যেখানে বাংলাদেশে সিংহভাগ রক্তের গ্রুপ B। সেখানে স্বামী-স্ত্রীর গ্রুপ মিল হবে সেটাই স্বাভাবিক। এতে কোনো প্রকার সমস্যা হয় না।

কিন্তু যদি স্ত্রীর নেগেটিভ রক্তের গ্রুপ থাকে এবং স্বামীর পজিটিভ গ্রুপ থাকে, তাহলে সমস্যা হয়ে থাকে। যাকে Rh Isoimmunization বলে।

পজিটিভ স্বামী ও নেগেটিভ স্ত্রীর প্রথম সন্তান যদি নেগেটিভ গ্রুপের হয় তাহলে কোনো প্রকার সমস্যা হয় না। বিপত্তি হয় তখন যদি প্রথম সন্তান বাবার রক্তের গ্রুপ পায় অর্থাৎ যদি পজিটিভ হয়। এই পজিটিভ রক্তের গ্রুপের গর্ভাবস্থায় সাধারণত কোনো ঝামেলা হয় না।

তবে এই সন্তান জন্মের সময় বাচ্চার পজিটিভ রক্ত নেগেটিভ মায়ের রক্তের সাথে মিশে যায়, যা গর্ভাবস্থায় দুরূহ, যদিও ০.১% ক্ষেত্রে রক্তের এই মিশ্রণ গর্ভাবস্থায়ও হতে পারে। মায়ের নেগেটিভ রক্তের সঙ্গে বাচ্চার পজিটিভ রক্তের এই মিশ্রণের কারণে মায়ের রক্তে এক ধরনের Antibody তৈরি হয়ে থাকে যা পরবর্তী গর্ভাবস্থাকে ঝুঁকিতে ফেলে।

অনেকের ভ্রান্ত ধারণা, বাবা-মায়ের রক্তের গ্রুপ এক হলে বাচ্চার থ্যালাসেমিয়া হয়। এটাও সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। কারণ থ্যালাসেমিয়া রোগ ক্রোমোজোম এবনরমালিটি থেকে হয়।

স্বামীর ব্লাড গ্রুপ যদি পজিটিভ হয় তাহলে স্ত্রীর ব্লাড গ্রুপও পজিটিভ হতে হবে। আর যদি স্বামীর ব্লাড গ্রুপ নেগেটিভ হয় তাহলে স্ত্রীর ব্লাড গ্রুপ পজিটিভ বা নেগেটিভ যে কোনো একটি হলেই হবে। তবে স্বামীর ব্লাড গ্রুপ যদি পজিটিভ হয় তাহলে কোনোভাবেই স্ত্রীর ব্লাড গ্রুপ নেগেটিভ হওয়া চলবে না। এক্ষেত্রে যদি স্ত্রীর ব্লাড গ্রুপ নেগেটিভ হয় তাহলে তার স্বামীর ব্লাড গ্রুপও নেগেটিভ হতে হবে।

রক্তের গ্রুপ মিলে গেলে কোনো সমস্যা হয় না। তবে স্ত্রীর রক্তের গ্রুপ যদি নেগেটিভ হয় আর স্বামীর যদি পজিটিভ হয় তাহলে ‘লিথাল জিন’ বা ‘মারন জিন’ নামে একটি জিন তৈরি হয়, যা পরবর্তীতে জাইগোট তৈরিতে বাধা দেয় বা জাইগোট মেরে ফেলে। সে ক্ষেত্রে মৃত বাচ্চার জন্ম হয়। যদি স্বামীর ব্লাড গ্রুপ পজিটিভ হয় তাহলে সাধারণত বাচ্চার ব্লাড গ্রুপও পজিটিভ হবে।

এখন আর মহিলাদের নেগেটিভ ব্লাড গ্রুপ খুব বেশি সমস্যা করে না যদি আগে কখনো অ্যাবরশন না হয়ে থাকে। শুধু সচেতন থাকতে হবে। স্বামীর ব্লাড গ্রুপ পজিটিভ হলে বাচ্চার জন্মের পরপরই বাচ্চার ব্লাড গ্রুপ পরীক্ষা করতে হবে।