মেয়ে তুমি জেনে নাও সে তোমাকে ভালোবাসে, নাকি স্রেফ সুযোগ নিচ্ছে?

প্রকাশিতঃ ২৪ July, ২০১৯ আপডেটঃ ৩:৪৮ PM

ভালোবাসা-বাসিতে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগাটা অস্বাভাবিক নয়। এমনকি প্রেমিক-প্রেমিকা পরস্পরের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকলেও শঙ্কা যেন কাটে না। বিশেষ করে মেয়েদের চিন্তাটা বেশিই থাকে। বিয়ের আগে বা পরে সম্পর্কে ফাটল প্রেমিক জুটিদের বেশ প্রভাবিত করে। তাই প্রেমিক বা সঙ্গীর মাঝে নিরাপত্তা খোঁজেন নারীরা। এই ব্যাখ্যাতীত শঙ্কা মুহূর্তেই দুঃস্বপ্ন হয়ে দেখা দেয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায় না। বিশেষজ্ঞদের মতে, অধিকাংশ মেয়েই তার প্রেমিকের ওপর পুরোপুরি ভরসা আনতে পারেন না। তাদের মনে হয়, এই বুঝি কিছু একটা ঘটে গেলো। অন্য কারো সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে গেলো না তো ইত্যাদি। কোনো সম্ভাবনা না থাকলেও মন মানে না। একটা প্রশ্ন মনটাকে অশান্তিতে ভরিয়ে তোলে- সে আমাকে সত্যিই ভালোবাসে, নাকি কেবলই ব্যবহার করছে আমাকে? মেয়েদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রেমিকের অনুভূতির প্রকাশ বা আচরণে কিছু লক্ষণ লুকিয়ে থাকে। এগুলো ধরতে পারলেই মেয়েরা প্রেমিকের মতিগতি ধরে ফেলতে পারবেন। ‘ব্রাইট সাইড’ দেখিয়েছে, কোন লক্ষণগুলোতে বুঝবেন যে ছেলেটা আপনাকে ভালোবাসেন কিংবা ভালোবাসেন না, অথবা কেবলই আপনাকে ব্যবহার করছেন।

এখানে ভালোবাসা এবং ভালোবাসা না থাকার লক্ষণগুলো তুলে ধরেছেন বিশেষজ্ঞরা। সঙ্গীর মাঝে এসব লক্ষণ খুঁজে দেখার দায়িত্ব আপনার।

১. তিনি ভালোবাসেন: আপনার দিকে অপলক তাকিয়ে থাকেন 

বিভিন্ন কবিতা এবং গানে এ বিষয়টি সঠিকভাবেই উঠে এসেছে। প্রেমিকের মনে ভালোবাসা থাকলে তিনি প্রেমিকা ওপর থেকে চোখ সরাতে চান না। একটু সুযোগ মিললেই তাকিয়ে থাকেন। কোথাও ঘুরতে গেলে বা বিশেষ দিনগুলোতে কিংবা আপনি একটু সাজগোজ করলে এই চেয়ে থাকার ঘটনা ঘন ঘন ঘটতে দেখবেন। এই চাহনি সবসময় নিখাদ ভালোবাসার জানান দেয়।

তিনি সুযোগ নিচ্ছেন: শুধু মনে হয়, আপনি তার কাছে বিশেষ কেউ না

প্রেমিকের অনেক বন্ধু-বান্ধব থাকতেই পারে। কিন্তু আপনি তার কাছে সবার মতো নন। তার দৃষ্টিতে আপনি পুরোপুরি আলাদা। আর সঙ্গী বা প্রেমিকের আচরণ আপনার মনে সে অনুভূতি আনবে। বুঝতে পারবেন যে আপনি তার কাছে বিশেষ কেউ একজন। যদি এ অনুভূতি না আসে, তো তিনি আপনাকে সত্যিকার অর্থে  ভালোবাসেন না।

২. ভালোবাসেন: বিশেষ কিছু জানার পরও তিনি ভাবলেশহীন থাকেন 

অনেক সময়ই সম্পর্কে এমন কিছু চলে আসে যা চলার পথটাকে বন্ধুর করে তোলে। বিশেষ করে অতীত জীবনের কোনো তথ্য বা অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু বেরিয়ে এলে সম্পর্কে টানাপড়েন দেখা দেয়। প্রেমিকার এমন কোনো ইতিহাস আচমকা জানার পরও প্রেমিক তটস্থ হয়ে ওঠেন না। তিনি পরিপক্কতার পরিচয় দেন। এটা ভালোবাসার লক্ষণ।

সুযোগ নিচ্ছেন: তার কথা বা আচরণে আপনি ক্রমাগত নিজেকে দোষী ভাবতে শুরু করেছেন 

সম্পর্কে জড়ানোর পর থেকে ক্রমেই এমন হয়ে গেছেন? সবকিছুতে নিজেকে দোষী মনে হয়? কোনো কাজ করতে গেলেই আপনি অস্বস্তিতে ভুগতে থাকেন। দ্বিধায় পড়ে যান। নিজেকে দায়ী মনে হয়। এমনটা হওয়ার পেছনে আসলে আপনার হাত নেই। নিশ্চয়ই সব ব্যাপার আপনার দোষও নেই। এমন চিন্তা তিনিই আপনার মনে ঢুকিয়েছেন। তিনি যদি আপনাকে সত্যিই ভালোবাসতেন এবং আপনার প্রতি যত্নবান হতেন তো আপনার মনে এমন অনুভূতি কাজ করতো না।

৩. ভালোবাসেন: তার আচরণ আপনাকে ব্যাপক প্রভাবিত করে 

প্রত্যেকের আচরণ পরস্পরকে প্রভাবিত করে। বিষয়টা খেলো নয়। তার কোন আচরণে আপনি কষ্ট পান বা অস্থির হয়ে ওঠেন ইত্যাদি প্রেমিক ঠিকই বুঝতে পারেন। তিনি খেয়াল করেন। আর বুঝে-শুনে এসব আচরণ এড়িয়ে চলেন তিনি। প্রেমিকের এই সচেতনতা আপনার প্রতি তার ভালোবাসাপূর্ণ মানসিকতা থেকেই আসে।

সুযোগ নিচ্ছেন: আপনার ব্যক্তিগত সময় বা চিন্তাকে পাত্তাই পায় না

হয়তো দুজন মিলে কোনো পরিকল্পনা করেছেন। সব ঠিকঠাক, কিন্তু শেষ মুহূর্তে প্রেমিক বা সঙ্গী সরে যান। আপনার কোনো ফোন বা মেসেজের উত্তর তিনি অনেক দেরিতে দেন। অনেক সময়ই আপনার মনে হবে, কাছের মানুষটি আপনার সময় এবং মূল্যবোধকে তেমন একটা পাত্তা দেন না। আপনার এ চিন্তা অমূলক নয়। এখানে অপর পক্ষের ভালোবাসার কোনো চিহ্ন নেই।

৪. ভালোবাসেন: আপনাকে ভালো রাখে এমন খুঁটিনাটি তার নখদর্পনে 

নজর কাড়ে এমন অঙ্গভঙ্গি আমরা সবাই পছন্দ করি। আপনার খুব সামান্য পছন্দ-অপছন্দ যদি তার জানা থাকে তবে বুঝে নিন তিনি আপনাকে ভালোবাসেন। এক্ষেত্রে আপনার পছন্দের কিন্তু অসহ্যকর কোনো টেলিভিশন অনুষ্ঠানও তিনি হাসিমুখে দেখতে থাকবেন। এসব ভালোবাসার প্রমাণ।

সুযোগ নিচ্ছেন: সুযোগ নিচ্ছেন: আপস করতে রাজি নন তিনি

অনেক সময়ই আপস করা বেশ কঠিন। বিশেষ করে সম্পর্ক যখন নতুন। মেয়েরা মনে রাখবেন, সঙ্গী যদি আপনার মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল না থাকেন তবে নতুন করে ভাবতে হবে। কেবল যদি আপনাকেই আপস করতে হয় তো বিষয়টা একতরফা হয়ে যায়। পারস্পরিক বোঝাপড়া থাকলে আপস করা খুব সহজ হয়ে আসবে।

৫. ভালোবাসেন: তিনি নিজের বিষয়ে খোলামেলা এবং আপনার কাছেও আশা করেন  

আমরা আসলে প্রত্যেকেই সম্পর্কে কিছুটা হলেও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগি। কিন্তু নিজের চিন্তা ও অনুভূতির লেনদেন ছাড়া সম্পর্ক গভীর হয় না। কিছু ব্যক্তিগত বিষয় তো থাকবেই। অন্য ক্ষেত্রে প্রেমিক খোলামেলা হবেন। তার মধ্যে কোনো লুকোচুরি থাকবে না। আরো খেয়াল করবেন, তিনি আপনাকে বিশ্বাস করেন এবং আপনাকে নিয়ে ভবিষ্যত দেখেন।

সুযোগ নিচ্ছেন: আবেগেতাড়িত করে আপনাকে বদলানোর চেষ্টা করেন 

তিনি খুব ভালো করেই আপনার দুর্বলতা এবং শক্ত মনের খোঁজ রাখেন। ফলে আপনাকে নিয়ন্ত্রণের অনেক মন্ত্রই তার জানা। আবেগতাড়িত করে আপনাকে সুবিধামতো বদলে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ ধরনের সম্পর্ক মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। এটা ভালোবাসাপূর্ণ সম্পর্ক নয়।

৬. ভালোবাসেন: সমস্যা নিয়ে তিনি কথা বলতে ইচ্ছুক 

দ্বন্দ্ব-বিতর্ক সমাধানে আবেগ কাজ করলে তা অনেক সময়ই স্বাস্থ্যকর সম্পর্কের নমুনা হিসেবে ধরা হয়। কিন্তু চিৎকার-চেঁচামেচিতে এর সমাধান হয় না। দুজনের মাঝে ঝগড়া হলেও বা মনে আবেগের ঝড় বয়ে গেলেও সমাধান নিয়ে প্রেমিক বা সঙ্গী আলোচনায় ইচ্ছুক থাকলে বুঝবেন তা ভালোবাসার প্রকাশ। এই যোগাযোগটাই শক্ত সম্পর্কের চাবিকাঠি।

সুযোগ নিচ্ছেন: সুযোগ নিচ্ছেন: মানুষের সামনে অপদস্ত করেন বা আপনি চুপ থাকতে বাধ্য থাকেন

তিনি আপনাকে দৃষ্টিকটু কিছু করতে প্ররোচিত করেন কিংবা দিনের পর দিন চুপ থাকতে বাধ্য করেন। কিছু সময় কিছু বিষয়ে অনেক বেশি আবেগকে নাড়া দেয়। আবার ক্ষোভ ও জিদ বশে রাখা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। সঙ্গী আপনাকে অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে ফেলে দেন। যে ব্যক্তিটি আপনাকে ভালোবাসেন, তিনি কখনো মানুষের সামনে অপমানজনক পরিস্থিতিতে ফেলবেন না। আবার দিনের পর দিন আপনার মুখ বন্ধ রাখতেও বাধ্য করবেন না। এ ধরনের আচরণ আসলে আপনার আবেগের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের নমুনা। এসব আপনার মনের শান্তি কেড়ে নেবে। নতুন করে ভাবতে হবে আপনাকে।