নয়া সংসদের যাত্রা শুরু, শপথ নেয়নি বিএনপি-ঐক্যফ্রন্ট

প্রকাশিতঃ ৩ জানুয়ারি, ২০১৯ আপডেটঃ ২:১৯ অপরাহ্ণ

নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করলো একাদশ জাতীয় সংসদ। তবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচিত সাত প্রার্থী শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না।

বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা শেরে বাংলা নগরে সংসদ ভবনের পূর্ব ব্লকের প্রথম লেভেলের শপথ কক্ষে দশম সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করান।

এর আগে, স্পিকার নিজে একাদশ সংসদ নির্বাচনে একটি সংসদীয় আসন থেকে বিজয়ী হওয়ায় বিধি অনুযায়ী তিনি নিজেই নিজেকে শপথ বাক্য পাঠ করান।

বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা ৫ মিনিটে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী আসন গ্রহণের পর জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব জাফর আহমেদ শপথ গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেন। এই আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় কোরআন তেলওয়াতের মাধ্যমে। পরে স্পিকার নিজে শপথবাক্য পাঠ করে সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করান।

এর প্রায় এক ঘণ্টা পর জাতীয় পার্টির (জাপা) সংসদ সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করান স্পিকার। এসময় দলের সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ, কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদের, মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গাঁসহ নির্বাচিত প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তবে এসময় জাপা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ উপস্থিত ছিলেন না। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, অসুস্থতার কারণে শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে শপথ নিতে পারেননি তিনি। বিকেল ৩টায় তিনি শপথ নেবেন।

শপথ বাক্য পাঠ করানোর পর সংসদ সদস্যদের শপথের কাগজে সই করতে বলেন সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব। পরে তাদের সংসদ সদস্য রেজিস্ট্রারে সই করতে বলা হয়।

এর আগে, শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার পর থেকেই সংসদ ভবন এলাকায় প্রবেশ করতে থাকেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। দশম সংসদের সংসদ নেতা ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা একে একে প্রবেশ করতে থাকেন সংসদ ভবনের পূর্ব ব্লকের শপথ কক্ষে।

এসময় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা, নারায়ণগঞ্জ-১ আসন থেকে নির্বাচিত গোলাম দস্তগীর গাজী, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা হক, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, নারী ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মণি, প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া চট্টগ্রামের মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, বাগেরহাটের শেখ নাসের তন্ময়সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে, শপথ শেষে আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের সভা অনুষ্ঠিত হবে। এই সভাতেই তারা নিজ দলের সংসদ নেতা নির্বাচন করবেন। সেক্ষেত্রে নির্বাচনে সর্বোচ্চ আসনপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের সংসদ নেতা হবেন নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন, এটা অনেকটাই নিশ্চিত।

নির্বাচনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন পাওয়া জাতীয় পার্টির ভূমিকা সংসদে কী হবে, তা এখনও নির্ধারিত হয়নি। গতকাল বুধবার (২ জানুয়ারি) নির্বাচন পরবর্তী জাতীয় পার্টির প্রথম প্রেসিডিয়াম বৈঠকের পর জানানো হয়, আজ সংসদীয় দলের সভায় তারা সিদ্ধান্ত নেবেন এ প্রসঙ্গে। তবে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, দশম জাতীয় সংসদের মতো একাদশ সংসদেও বিরোধী দলে থাকার পাশাপাশি নতুন মন্ত্রিসভাতেও দলীয় সংসদ সদস্যদের রাখার বিষয়ে আগ্রহী দলটি।

এর আগে, ৩০ ডিসেম্বর রোববার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ওই দিন দিবাগত রাতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব নির্বাচনের ফল ঘোষণা করেন। পরে মঙ্গলবার নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ফল গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৮টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ২৫৭টি, জাতীয় পার্টি ২২টি, বিএনপি পাঁচটি, ওয়ার্কার্স পার্টি তিনটি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) দুইটি, বিকল্পধারা বাংলাদেশ দুইটি, গণফোরাম দুইটি, জাতীয় পার্টি (জেপি) একটি এবং তরিকত ফেডারেশন একটি আসনে বিজয়ী হয়েছে। এছাড়া স্বতন্ত্র হিসেবে তিন জন নির্বাচিত হয়েছেন।

তবে জোট হিসেবে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট এই নির্বাচনে আসন পেয়েছে ২৮৮টি, অন্যদিকে বিএনপিসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট পেয়েছে ৭টি আসন। বাকি তিনটি আসনে জয় পেয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।

এদিকে, একজন প্রার্থীর মৃত্যুতে গাইবান্ধা-৩ আসনের ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়। এছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের তিনটি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করায় ওই আসনের ফলও স্থগিত করা হয়েছে।

এসএইচ-০১/০৩/১৯ (ন্যাশনাল ডেস্ক)