টেস্ট বিশ্বকাপে খেলতে মুখিয়ে মুমিনুল

প্রকাশিতঃ ২২ আগস্ট, ২০১৯ আপডেটঃ ৭:৫৮ অপরাহ্ণ

টি-টোয়েন্টি দলে তিনি কোন সময়ই খুব নিয়মিত ছিলেন না। তবে এক সময় টেস্টের পাশাপাশি কিছুদিন ওয়ানডে দলেও ছিলেন মুমিনুল হক; কিন্তু কালের আবর্তে এখন আর ওয়ানডে কিংবা টি-টোয়েন্টি- কোনোটাতেই বিবেচনায় আসেন না। এখন তিনি পুরোদস্তুর টেস্ট স্পেশালিস্ট।

২০১৯ সালের মার্চে ওয়েলিংটনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্ট দলেও ছিলেন মুমিনুল হক; কিন্তু ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে লাল সবুজ জার্সি গায়ে ওঠে না অনেকদিন।

শেষ ওয়ানডে খেলেছেন গত বছর ২৬ সেপ্টেম্বর দুবাইয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে। আর টি-টোয়েন্টি ম্যাচে বাংলাদেশ দলকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন ছয় বছরেরও বেশি সময় আগে, ২০১৪ সালের ১ এপ্রিল।

মোটকথা, তার সমবয়সী আর সহযোগিরা যখন প্রায় তিন ফরম্যাটে জাতীয় দলে খেলার জন্য ব্যস্ত সময় কাটায়, মুমিনুল তখন অপেক্ষায় থাকেন কবে টেস্ট সিরিজ হবে। কোন দিন শুরু অমুক দলের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচ!

বিশ্বকাপের আগে পুরো দেশ ও জাতি মেতেছিল ওয়ানডে নিয়ে। তার আগে এ বছর মার্চে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের পর গত প্রায় ছয় মাস টেস্ট জগত থেকেই দুরে বাংলাদেশ।

তবে আশার কথা, সামনের দিনগুলোয় আবার টেস্ট বেশি বেশি খেলবে টাইগাররা। আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ বাংলাদেশকে আবার দীর্ঘ ফরম্যাটের ক্রিকেটের ফেরাবে।

আগামী নভেম্বরে ভারতের মাটিতে ভারতীয়দের সাথে দুই ম্যাচের সিরিজ দিয়েই শুরু হবে টাইগারদের বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ। তার আগে আফগানিস্তানের সাথে এক ম্যাচের সিরিজটি সে অর্থে টাইগারদের টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ড্রেস রিহার্সেল বা প্রস্তুতিমূলক। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে যাওয়ার আগে শেষ ম্যাচ।

বাংলাদেশের টেস্ট স্পেশালিস্ট মুমিনুল হক মুখিয়ে আছেন, টেস্ট বিশ্বকাপে অংশ নিতে। তার কাছে আফগানিস্তানের বিপক্ষে এক ম্যাচের সিরজটি হবে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের আগে ভাল প্রস্তুতি।

মিরপুরে আজ নতুন কোচ রাসেল ডোমিঙ্গোর অধীনে অনুশীলন শেষে মুমিনুলের মুখে এ কথা, ‘টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের আগে এই ম্যাচ খেলা একটা ভালো প্রস্তুতি। আমাদের সবার জন্যই ভালো সুযোগ। মনে হয় ভালো একটি খেলা হবে।’

এই যে একা একা শুধু টেস্ট খেলার অপেক্ষায় থাকা। মনোযোগ-মনোসংযোগ ঠিকমত রাখতে পারা এবং নিজেকে টেস্টের জন্য তৈরি রাখা। কাজটা সহজ নয়। কঠিন। এই কঠিন কাজগুলো তাকে করতে হয়।

সঙ্গীরা যখন ওয়ানডে বা টি-টোয়েন্টির প্রস্তুতি নেন সদলবলে, তখন তাকে অপেক্ষায় থাকতে হয়। নির্জনে, নিরবে-নিভৃতে একা বা কোচিং স্টাফ কাউকে নিয়ে হয়ত লাল বলে প্র্যাকটিস চালিয়ে যেতে হয়। সেটা কি করে সম্ভব?

মুমিনুলের ব্যাখ্যা, ‘এই জায়গায় মানসিকভাবে অনেক শক্ত হতে হয়। শারীরিকভাবেও সামর্থ্যবান হতে হয়। আশা করি আমার তেমন কোনো সমস্যা হবে না। এটায় আমি অভ্যস্ত হয়ে গেছি। কয়েকদিন আগে ভারতে আমি তিন-চারটা চারদিনের ম্যাচ খেলেছি। খেলার মধ্যে থাকলে বিষয়টা সহজ হয়। এতো কঠিন হয় না। জিনিসটা কঠিনভাবে নিলে কঠিন, সহজভাবে নিলে সহজ।’

মুমিনুল মনে করেন টেস্ট ম্যাচ বেশি খেলার সুবিধা অনেক। তার ভাষায়, ‘ম্যাচ না খেললে এক রকম; কিন্তু ম্যাচ খেললে পারফর্ম করার সুযোগ বাড়বে আপনার। ফলাফল ভালো করার সুযোগ থাকে, দলকে ভালো একটি অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকে, র্যাংকিংয়ে উপরের দিকে যাওয়ারও সুযোগ থাকে। এদিক দিয়ে চিন্তা করলে আমার মনে হয় এটা খুব ভালো একটি সুযোগ।’

মুমিনুল মনে করেন, আফগানিস্তানের সাথে ম্যাচটি শুধু টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের প্রস্তুতিই নয়, ভারতের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজেরও একটা অন্যরকম প্রস্তুতি। কারণ, ভারতের বিপক্ষে টেস্টে মূলতঃ স্পিন সামলাতে হবে।

আর আফগানিস্তানের বোলিংটাও স্পিন নির্ভর। কাজেই ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের আগে আফগানদের স্পিন আক্রমণ আমাদের সামনে আসবে। এটা ভালো প্রস্তুতিও হবে। আমরা জানি যে উপমহাদেশে ভারতের স্পিন আক্রমণ অনেক ভয়ঙ্কর।’

এসএইচ-১৬/২২/১৯ (স্পোর্টস ডেস্ক)